Monday, May 27, 2019

দেখিনা কিছু, দেখা হয়না

বহেমিয়ান জীবনে কত ইচ্ছেরা ঘুরে বেড়ায়।
এই মনে হয় ডুয়ার্সের চা বাগানের মালি হয়ে যাই। ভেজা চা বাগানের চুয়ে পড়া জলে মিশে থাক ঘাম। মেঘের কুণ্ডলি ছুয়ে বলি, হারিয়ে যা দুরের পাহাড়ে, আমিও হব তোর সঙ্গী.
এই ভাবি খালাসী হয়ে যাই জাহাজের। স্টীমার এর ভেঁপু, আজ ভেনিস কাল রেঙ্গুন, পরশু ইস্তানবুল ঘুরে, শত মানুষ, শত মন, শত সহস্র অনুরাগ, দুঃখবোধ বুকে বয়ে ভেসে চলি গন্তব্যহীন পথে।
অথবা ট্রেনে চেপে কলকাতা, সিঙ্গুর ঘুরে অজানা স্টেশনের মধ্যরাত, কুণ্ডলি পাকানো ঘুম।
কিছুই হয়না! কংক্রিট কারাগারের প্রকোষ্ঠে নিয়মের শেকল জড়িয়ে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত শ্রান্ত রাত আসে, ভোর ঽয় , চাদ ওঠে জোৎস্নার জোয়ারে প্লাবিত জনপদে প্রেম আসে। প্রখর রোদ, বৃষ্টি - গোধূলি এসে চলে যায়। 

 দেখিনা কিছু, দেখা হয়না।

Sunday, May 26, 2019

তোমাকে কিছু দেয়া হয়নি!!

তোমাকে কিছু দেয়া হয়নি
বিষন্নতার মেঘ আঁচলে লুকিয়ে রেখেছিল রোদ্দুর
অন্ধকারে দীর্ঘশ্বাস জমে জমে সাইক্লোন, ফেনিল বায়ূূ
রোদ উঠেছিল ঠিক ঝলমলে, 
অতঃপর তলানিতে ঝাঁ চকচকে কিছু অঙ্গার দেখে
বুঝে নিয়েছিলাম- এ ভস্ম আমার হৃৎপিণ্ড থেকেই জন্ম নিয়েছিল
ঠিক যেখানে জন্ম নিয়েছিল এক গ্যালাক্সি প্রেম। 
২৭/০৫/১৯

খালি পেটে লিচু: ভারত ও বাংলাদেশে শিশুমৃত্যুর কারণ

Saturday, May 25, 2019

ধারাবাহিক কিশোর সায়েন্স ফ্যান্টাসি- স্কুল ট্রিপে নাসা অভিযান, পর্ব-৭

(সাত)
  ধানমন্ডি সাতাশ নম্বরের শেষ মাথায় লাল ইটের ভবন। পাশেই ছায়ানট। হোপ ইন্টারন্যাশনাল স্বুলের ভবনটা তিন তলা। নিচ তলায় অফিস রুম। লাইব্রেরী। ছোট্ট খেলার মাঠ। একটা বাস্কেট বল কোর্ট। এটারই এক পাশে টেনিস লন। নিচতলার ডানদিকের বিশাল রুমে কম্পিউটার ল্যাব। টিচার্স কমন রুম। শান্তনুদের ব্যাচে শিক্ষার্থী ৫২ জন। তিন তলায় সাজানো ক্লাস রুম। শান্তনুর বাসা থেকে স্কুল পনের মিনিটের পথ। বেশিরভাগ সময় সামদানি সাহেব গাড়ি দিয়ে ড্রপ দেন। শান্তনু একা ফেরে। মইনাক আর রাশেদ ছাড়াও শান্তনুর আরেকজন খুব ঘনিষ্ট বন্ধু নেহা।
    নেহাদের বাসা লেকপাড়েই। ১৬/এ নম্বর রোডের শেষ মাথার সবুজ ঘেরা বাড়িটা। নেহার বাবা নাজমুল ইমাম। দেশের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী। গামেণ্টস এর ব্যবসা। খুব নাম ডাক। ফেরার সময়ে বেশিরভাগ সময়েই নেহার গাড়িতে ১৬/এ পর্যন্ত গিয়ে নেমে রিকশা ধরে শান্তনু। নেহার পুরো নাম নুরুননাহার। নুরুন্নাহার নেহা। দাদি খুব আদর করে নাম রেখেছিলেন নুরুন্নাহার। নুর মানে আলো। আলোয় আলোয় আলোকিত। আলোর মতোই চেহারা। বাম গালের ঠিক মাঝখানে একটা তিল। ঝকমকে দাত। স্কুল ড্রেসে দুই বেনীতে অদ্ভুত একটা মায়া মাখানো চেহারা। টানা চোখ। ধবল শাদা গায়ের রঙ। মিস্টি হাসিতে টোল পড়ে। ও লেভেলেই ভর্তি হয়েছে নেহা। এর আগে কোন একটা স্বুলে পড়তো। এইতো মাস ছয়েক আগে কোর্স  শুরু হলো।
    সেদিন ছিল শনিবার। সকাল ৯টা থেকে স্কুল। সামদানি সাহেব নামিয়ে দিলেন শান্তনুকে। বৃষ্টি হচ্ছিল গুড়ি গুড়ি। এক দৌড়ে বারান্দায় শান্তনু। পুরু চশমায় ফোটা ফোটা বৃষ্টির জল। ছোট খাটো সৌম্য চেহারা। কাধেঁ স্কুল ব্যাগ। বৃষ্টির পানিতে ঘোলা হয়ে গিয়েছিল পুরু চশমা। আবছা দেখছিল। ঠিক সামনেই দাড়ানো নেহা। অফিস রুমের সামনে। সাদা কালো চেক এর স্কুল ড্রেস। শাদা কেডস। স্পষ্ট মনে আছে শান্তনুর। পকেট থেকে রুমাল বের করে গ্যাস মুছে তাকিয়েছিল। ক্লাসের সব বন্ধুদের সাথেই ভালো সম্পর্ক শান্তনুর। শান্তশিষ্ট আর মৃদুভাষী বলে সবার প্রিয়ও। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স প্রীতির কারনে অনেকে মজা করে নামও বদলে ফেলেছে শান্তনুর। শান্তনুর বাবা রেডিওতে চাকুরি করেন। শান্তনুও ক্লাস পার্টিতে একবার একটা ট্রানজিষ্টর প্রেজেন্ট করেছিল। সেই থেকে বন্ধুরা মি. ট্রানজিসন্টর বলেও ডাকে আড়ালে আবডালে। মুখ টিপে হাসে। শান্তনু বোঝে সব। কিন্তু এমন করে কাউকে তো ভালো লাগেনি কখনো।
    গাড়ি থেকে নামতে গিয়ে খানিকটা ভিজে গিয়েছিল শান্তনু। নেহারও চুল ভেজা ভেজা। পোশাকে জলের ছাপ। আকাশ বেশ কালো হয়ে আড়াল করেছে আলোকে। দিনের বেলাতেও বারান্দায় বাতি জ্বলছে। এখানে সেখানে ছেলে মেয়েদের জটলা। পনের বসন্তের একটা কিশোরের মনে কী যেন খেলে যায় নেহাকে দেখে। মনে হয় যুগ জনমের চেনা কেউ। কাউকে কাউকে প্রথম দেখাতেই এত আপন মনে হয়, নেহাকে না দেখলে তা হয়তো এ জীবনে অনুভব করতে পারতো না শান্তনু। পুরু চশমার ভেতর দিয়ে হা করে তাকিয়ে ছিল কিছুক্ষন। নেহাও হয়তো বুঝতে পারে বিষয়টি। মিস্টি একটা হাসিতে এই তাকানোর জবাবটা দিয়ে ফেলে নিজের অজান্তে। ওই হাসিতে যেন আকাশ ফর্সা হয়ে আসে। মেঘ কেটে উকিঁ দেয় জ্বলজ্বলে সূর্য।
    বারান্দা ছেড়ে তিন তলার ক্লাসরুমে ছুটে যায় শান্তনু। চিরচেনা হইচই। একান্ন জন পুরনো বন্ধুর সান্নিধ্য কিছু সময়ের মধেই ভুলিয়ে রাখে মনের আকাশে উকিঁ দেয়া একটা নতুন সূর্যের কথা। প্রথম ক্লাস জামান স্যারের। ঘন্টা বাজে। জামান স্যারের সাথে ক্লাসরুমে ঢোকে নতুন অতিথি নেহা। শান্তনুর বুকের ভেতরটা ধড়াস করে ওঠে। যেন এই মুহুর্তটারই প্রার্থনা করছিল এতক্ষণ। সে বন্ধু হোক আর যাই হোক। এ যেন হাজার বছরের চেনা কেউ। এত ভালো কেন লাগছে। বুকের ভেতর কেমন একটা অনুভূতি হচ্ছে। কিছুই বুঝতে পারেনা শান্তনু। হয়তো কিছু অনুভূতির কোন ব্যাখ্যা থাকেনা। মানব মনের জটিল রসায়নে বিক্রিয়ায় আবর্তিত হয় নিজের অজান্তেই। এক্ষেত্রে কারো কোন হাত থাকেনা। কারও কিছু করার থাকেনা।
    জামান স্যারের সাথে ডায়াসে উঠে গুটিসুটি মেরে দাঁড়ায় নেহা। প্রথম দিনটি এখনো চোখে জ্বলজ্বল করে ভাসে শান্তনুর। ফর্সা মুখ লাল হয়ে গিয়েছিল নেহার। লজ্জা যেন লুকোতে পারছিলনা কিছুতে। পরিচয় করিয়ে দেন জামান স্যার।
    ‘ প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, আজ আমি একজন নতুন বন্ধুকে পরিচয় করিয়ে দেবো। ওর নাম নুরুন্নাহার। ডাক নাম নেহা। আজ থেকে আমাদের নতুন সহযাত্রী’’
    মুচকি হেসে হাত নাড়ে নেহা।‘ হাই ফ্রে-জ, আই এম ইওর নিউ ফ্রেন্ড। হোপ ইউ অল আর বি উইথ মি’। স্পষ্ট পশ্চিমা ইংরেজি উচ্চারনে এক নিঃশ্বাসে কথাগুলো বলে নেহা। সবাই হাততালি দিয়ে স্বাগত জানায় নেহাকে। তারপর পুরো ক্লাসে আনমনে নেহার কথাই ভাবছিল শান্তনু। কেন জানে না। নেহা যে ইংরেজি উচ্চারনে এত ভালো তার সাথে না বুঝলে তার আসল রুপ অজানাই থেকে যেতো।
    আধুনিক অভিজাত পরিবারের সন্তান নেহা। স্টাইলিশ। কিন্তু ঐতিহ্য ছাড়েনি। পছন্দ তার রবীন্দ্রনাথ। খুব ভালো বাংলা উচ্চারণে আবৃতি করতে পারে। উৎসবে বাঙালি ঢঙে শাড়ি পরে হাতে কনুই পর্যন্ত চুড়ি পরে মেহেদি রাঙাতে পারে। খুব কাছে থেকে না মিশলে এসব অজানাই থেকে যেতো শান্তনুর।
    প্রথম দিন টিফিন পিরিয়ডেই নেহার মুখোমুখি দাড়ায় শান্তনু।
    ’ নেহা, আমি শান্তনু। পুরো নাম শফিকুল সামদানি শান্তনু।‘ হাত বাড়িয়ে দেয় নেহা।
    ‘ আমরা থাকি লেক পাড়ে। লেকভিউ এপার্টমেন্টে।‘
    ‘ ওহ তাই নাকি। আমরা থাকি ১৬/এ।আমার বাবার নাম নাজমুল ইমাম। সড়কের শেষ বাড়িটা আমাদের।‘ হাস্যোজ্বল নেহা।
    ‘ নাইস টু মিট ইউ ফ্রে-’ বলে হাত বাড়িয়ে দিতেই হই হই করে তেড়ে আসে রাশেদ ও মইনাক। ’’ এই মিস্টার ট্রানজিষ্টর। করো কি। করো কি। হাই। দিস ইজ রাশেদ। হ্যালো দিস ইজ মইনাক। নাইস টু মিট ইউ অলসো। কি বলো মিস্টার ট্রানজিষ্টর। হাহাহাহাহা।‘’
    মিস্টার ট্রানজিষ্টর এর মানে বোঝেনা নেহা। অকারনেই হাসিতে তাল মেলায়। একসংগে বেরিয়ে পড়ে ক্লাস শেষে।
    পাজেরো গাড়িতে কালো গ্লাসের আড়ালে ঢেকে চলে যায় নেহা। হাত নাড়ে শান্তনু। রিকশা খুঁজতে থাকে। সূর্য তখন পশ্চিমে গড়াতে শুরু করেছে। আজ মনটা বেশ ফুরফুরে। মইনাক আর রাশেদ মিলে রিকশা ঠিক করে। আকাশ জোড়া মেঘ। থেমে থেমে ছিটেফোটা বৃষ্টি।শীত শীত ভাব। আজ পুরো ধানমন্ডিটা একটা চক্কর দেবে তিন বন্ধু। সন্ধ্যার আগে রবীন্দ্র সরোবরে ফুচকা খেয়ে তারপর বাসায় ফিরবে।
ধানমন্ডির সাতাশ নাম্বার থেকে রিকশার চাকা গড়াতে থাকে। মইনাক রিকশার হুডের ওপর পা ছড়িয়ে বসেছে। শান্তনু আর রাশেদ সিটে। চিরচেনা যানজট। টুংটাং বেল বাজিয়ে চলে রিকশা। শান্তনুর মন পড়ে থাকে সেই বৃষ্টি ভেজা বারান্দায়। যে মুহুর্তটা নাড়িয়ে দিয়ে গেছে তার কচি মনের গোপন দরজা। সেই দরজায় কে দাঁড়াবে কে জানে ? হই চই এ মেতে ওঠে মইনাক আর রাশেদ। শান্তনু তলিয়ে যেতে থাকে ভালোলাগার অতল এক অদ্ভুত রাজ্যে। যেখানে গাছে গাছে, ফুলে ফুলে শুধু নেহার মুখচ্ছবি। আর কিছু নেই সেখানে।

অামার অস্তিত্বে, আমার ভাবনায়, আমার কল্পলোকের যে রাজ্য- সেখানকার আলোয়, বাতাসে, সেখানকার বর্নিল আকাশ, নিজের মত করে বানিয়ে নেয়া ঘর, ঘরের জানালায়, লতায় গুল্মে- লিখে রেখেছি
বলে গেছি নিজের সঙ্গে নিজের কথাগুলি, স্মৃতি নামের একজন বন্ধু লিখে যায় প্রত্যেকটা অনুসেকেন্ড- মস্তিস্কের কোষে কোষে পুঁতে যায় অডিও ভিজ্যুয়াল রেকর্ডের বীজ।
একবার ভেবে দেখো, চোখ বুঁজে হৃদয়ের দরজা কবাড সব খুলে দাও-
ধরো তোমার ভেতর একটা ডানা ঝাপটানো পাখি, দেয়ালে দেয়ালে মাথা ঠুকে, রাক্ষুসে ক্ষুধায়-তৃষ্ণায় বিক্ষত হৃদয় নিয়ে মুমূর্ষু এক প্রাণ-
অতঃপর পাখিটাকে মুক্ত করো, ডানা ঝাপটে উড়ে বেড়াক, বুকে টেনে নিক একান্ত আকাশ
ছায়াঘেরা বৃক্ষের সবুজ কোমল ঠোঁট থেকে শুষে নিক বিশুদ্ধ অক্সিজেন,
ধরো- এ এক অন্য পৃথিবী, যা ভাবা যায়না, দেখা যায়না, ছোঁয়া যায়না
শুধু অনূভবে অনুরণন, শুধু প্রলম্বিত মুক্তির গান, নিঝুম রাতের বিরহী বাঁশির মত টেনে নিয়ে যায় বুকের অর্ধেকটা।
২৬/০৫/১৭

Thursday, May 23, 2019

একটা ছোটগল্প লিখে ৫০ হাজার টাকা আয় !! এই সেই ৫০ হাজার টাকার গল্পের নাটক দিব্যদৃষ্টি।


একটা ছোটগল্প লিখে ৫০ হাজার টাকা!১ হ্যাঁ। এটা ৫০ হাজার টাকার গল্প।
গল্পটি থেকে ঈদের নাটক বানিয়েছিল ফেয়ার এল্ড লাভলী ও বৈশাখী টিভি। ২০১৩ সালের ঈদে প্রচারিত নাটকটির নাট্যরুপ ও পরিচালনা করেছিলেন মাতিয়া বানু শুকু আপা।
Bangla Romantic Natok   Debbo Dristy , Story- Rakibul Islam Mukul
https://www.youtube.com/watch?v=spkrlWaDscM

Tuesday, May 21, 2019

ধারাবাহিক কিশোর সায়েন্স ফ্যান্টাসি- স্কুল ট্রিপে নাসা অভিযান, পর্ব-৬

(ছয়)
রাত সাড়ে ৩টা। আমেরিকার ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের অরল্যাণ্ডোর ডিজনি ওয়াল্ড রিসোর্ট। ১৭ তলার বড়সড় একটা রুম। দুটো বিছানা। ডিম লাইটের আবছা আলো। একটা টেবিল। ওয়ারড্রোব। জানালায় বেশ ভারি পর্দা। জোছনা রাত। জানালার গ্লাস সরানো। মৃদু বাতাসে কেঁপে উঠছে পর্দা। শীত শীত করছে শান্তনুর। এক বিছানায় জড়াজড়ি করে শুয়েছে তিন বন্ধু। পাশের বিছানা খালি। শীত শীত ভাবে হঠাৎ ঘুম ভাঙলো শান্তনুর। বিছানা ছেড়ে জানালার পাশে দাঁড়ালো। পর্দা আরও কিছুটা সরানো। অনেকটাই নির্জন আশপাশের এলাকা। জোছনা  আর রঙ বেরঙের আলোয় অদ্ভুত সুন্দর চারপাশ। এত রাতেও রাস্তায় ছুটে চলেছে শত শত গাড়ি। তবুও কোন শব্দ নেই। কান ফাটানো হর্ণ তো আমেরিকা আসার পর থেকে শোনেনি শান্তনু।

মইনাক আর রাশেদ বেঘোরে ঘুমাচ্ছে। পাশে গিয়ে বসলো শান্তনু। ঘুম আসছে না। মইনাক চশমা পরে। ওর চশমাটা পাশেই পড়ে আছে বিছানায়। আলতো করে নিয়ে টেবিলে রাখলো। ঢকঢক করে পানি খেল। ঘুমের যে কি হলো আজ। বাংলাদেশে এখন দিন। খুব ইচ্ছা করছে বাবার সঙ্গে কথা বলতে। কিছু ভালো লাগছে না। কেমন যেন টেনশন হচ্ছে সব কিছু মিলে। আর মাত্র দুদিন। এই দুদিন অরল্যা-ো ভ্রমন শেষে তারা ছুটবে শত কিলোমিটার দুরের টিটাসভিল শহরে।

ভালো লাগছিল না কিছু। ঘুম যেন নির্বাসনে। বুকের ভেতরটায় কেমন যেন করছিলো। নিউইয়র্কে আসার পর শর্মি খালা একটা সিমকার্ড আর মোবাইল ফোন দিয়েছেন। স্যামসাং এর বেশ দামি ফোন। টাচ স্ক্রিন। ঢাকা থেকে আসার সময় হাতব্যাগে যতœ করে নিয়েছে প্রিয় আইপ্যাড। গোলাম সামদানি সাহেব গত বছর সিঙ্গাপুরে কি একটা মেলায় গিয়ে ছেলের জন্য এনেছিলেন। বুকের ভেতরটায় ধুকপুক করছে শান্তনুর। উদ্বেগ উৎকণ্ঠার সীমা নেই। কী হয় কী হয়। বেশ নার্ভাস লাগছে। নিজেই আবার নিজেকে অভয় দিচ্ছে। এত নার্ভাস হলে হবেনা শান্তনু। তোমাকে বিশ্ব জয় করতে হবে। নতুন কিছু করে সবাইকে তাক লাগাতে হবে। মোবাইল ফোন হাতে নিয়ে রুম লাগোয়া বারান্দায় গেল শান্তনু। হাতে ছোট্ট নোট বুকটা। ফুল স্লিভ একটা পাতলা গেঞ্জি। আর থ্রি কোয়ার্টার প্যান্ট। একহারা গড়ন শান্তনুর। চোখে পুরু চশমা। কাছের জিনিস দেখতে অসুবিধা। বছর বছর বদলাতে হচ্ছে পাওয়ার।

বারান্দায় বেশ শীত শীত করছে। কাঁপুনি লাগছে হালকা। খারাপ লাগছে না। বারান্দায় টবে ক’টা ফুল গাছ। নাম জানেনা। কয়েকটা বাহারি ফুল সোডিয়াম আলোয় কেমন ম্যাটম্যাটে লাগছে। ছোট্ট একটা ইজি চেয়ার পাতা বারান্দায়। আকাশ জুড়ে মিটিমিটি জ্বলছে তারা। আবছা আলো অন্ধকার। দূরে ডিজনি ওয়ার্ল্ডের রাইডগুলো মৃত পড়ে আছে। চারদিকে শুনশান নীরবতা। নোটবুক হাতড়ে বাবার নাম্বার বের করলো শান্তনু।

‘হ্যালো... বাবা’
‘ কিরে ঘুমাসনি ?’
‘ঘুমিয়েছিলাম বাবা। হঠাৎ ঘুম ভাঙলো।’
‘কেন রে ? খুব টেনশন হচ্ছে বুঝি ? ’
‘জানি না বাবা, তবে কেমন যেন একটা অনুভূতি হচ্ছে..আচ্ছা বাবা খেয়েছো তো দুপুরে, নাকি ভুলে গেছ আবারও ? ’
কাশি দিলেন সামদানি সাহেব।
‘ওহ আমি এলাম তিনদিন। এর মধ্যে কাশিটাও বাধিয়েছো। বাহ, একদম অনিয়ম চলবে না বাবা। ’
অট্টহাসি সামদানি সাহেবের। ‘ হাহাহা, পাগল ছেলে। ঘুমাতে যাও। আমি ঠিক আছি। অপেক্ষায় আছি তোমার মিশনের ফলাফল জানার।  এসপার নয় ওসপার। সব কিছু জেনে বুঝেই কিন্তু রাজি হয়েছি। সো.. একদম টেনশন করো না। দেখো তুমি পারবে। আই এম কনফিডেন্ট। বেষ্ট অব লাক মাই সান। ’’
‘ওকে বাবা রাখলাম । ’

ফোন রেখে চোখ বন্ধ করে কিছুক্ষন ইজি চেয়ারে দুলুনি খেলো শান্তনু। মনটা কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না। সকাল ৮টায় বেরিয়ে পড়তে হবে। গন্তব্য ডিজনি ওয়ার্ল্ড। কিন্তু ঘুম আসছে না। রাতে ভালো ঘুম না হলে সকালে খারাপ লাগবে। কোন কাজও নেই। চোখ বন্ধ। হঠাৎ মনে হলো ‘ আচ্ছা পরিকল্পনাটা একা একা ঝালিয়ে নিলে কেমন হয়।’

যেমন ভাবনা তেমনই কাজ। রুমে ঢোকার আগে ফ্রন্ট ডেস্কে জেনে নিয়েছিল এই হোটেলে ওয়াইফাই সংযোগ আছে কি না। পাসওয়ার্ডটাও টুকে রেখেছে রুম নম্বরের সঙ্গে মিলিয়ে। উঠে সোজা রুমে। হাতব্যাগ থেকে আইপ্যাড বের করে ওয়াইফাই কানেক্ট করলো। যদিও ঢাকা থেকে প্রাথমিক পরিকল্পনা সেরে এসেছে। খালি বিছানায় গা এলিয়ে আইপ্যাড এ নিমগ্ন শান্তনু। গুগল এ সার্চ দিল নাসা লিখে। হাজার হাজার রেজাল্ট। প্রাথমিক কিছু তথ্য টুকে রাখলো নতুন করে নোটপ্যাডে।

নাসা (Nasa) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। এর সম্পূর্ণ নাম National Aeronautics and Space Administration। ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সংস্থার সদর দফতর ওয়াাশিংটন ডিসিতে অবস্থিত। পূর্বতন নাকা (ন্যাশনাল অ্যাডভাজরি কমিটি ফর অ্যারোনটিক্স) বিলুপ্ত হয়ে ১৯৫৮ সালের ২৯ জুলাই ন্যাশনাল অ্যারোনটিক্স অ্যান্ড স্পেস অ্যাক্ট অনুসারে প্রতিষ্ঠিত হয় নাসা। মার্কিন মহাকাশ যাত্রায় এই প্রতিষ্ঠানে ভূমিকা অ্যাপোলো চন্দ্রযাত্রা, স্কাইল্যাব মহাকাশ স্টেশন ও স্পেস শাটল ইত্যাদিতে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখেছে।

শান্তুনু এসেছে ফ্লোরিডায়। নাসা ফ্লোরিডা লিখে সার্চ দিল আবার। হাজারো ওয়েব পেজ বেরিয়ে এল অনুসন্ধান পাতায়। নোট নিল যতœ করে। নাসা আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশন প্রকল্পের সাথে যুক্ত ৫টি সংস্থার একটি। এর মধ্যে ফ্লোরিডায় নাসার জন এফ কেনেডি স্পেস সেন্টারটি অবস্থিত। জন এফ কেনেডি স্পেস সেন্টারটি ফ্লোরিডার টিটাসভিল (ঞরঃঁংারষষব) শহরের পাশে আটলান্টিক উপকূলে মেরিট আইল্যান্ড (গবৎৎরঃঃ ওংষধহফ) নামক একটি দ্বীপে অবস্থিত। এই স্পেস সেন্টার থেকে নাসার নভোযান উৎক্ষেপণ করা হয়ে থাকে। নভোযান উৎক্ষেপনের সব সুবিধা এখানে রয়েছে। এখানে একটি দর্শনার্থী কেন্দ্র এবং স্পেস সেন্টারের মূল অংশে বাস ভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে। যা ফ্লোরিডা ভ্রমণে আসা প্রচুর পযর্টককে এ স্থানটি দর্শনে আকৃষ্ট করছে।

নাসা সংক্রান্ত প্রাথমিক বেশ কিছু তথ্য উপাত্ত খুঁজে নোট বুকে তা টুকে রাখলো শান্তনু। ঘড়িতে তখন ভোর ৫টা। চোখে কিছুটা ঘুমের ছায়া খেলা করতে লাগলো। হাই উঠছে ঘন ঘন। মইনাক ও রাশেদ বেঘোরে ঘুমাচ্ছে।  ফোনে সকাল ৭টায় এলার্ম দিয়ে জড়াজড়ি দুই বন্ধুর পাশে কোনমতে শুয়ে পড়লো শান্তনু। পাশে পড়ে থাকলো খালি বিছানা। একটা কলম। নোটপ্যাড। রাজ্যের যতো ঘুম যেন এসে ভর করলো শান্তনুর ওপর। খুব বেশি ক্লান্ত। পরিশ্রান্ত। শোবার কিছুক্ষনের মধ্যেই ঘুমের অতলে হারিয়ে গেল শান্তনু।
)

দিনাজপুরে লোহার খনি পেলেন বিশেষজ্ঞরা: মান অন্য যে কোন দেশের চেয়ে ভাল

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ইসবপর গ্রামে উন্নত মানের লোহার আকরিকের (ম্যাগনেটাইট) খনির সন্ধান পেয়েছে বাংলাদেশ ভূ-তাত্ত্বিক জরিপ অধিদফতর ...